সত্যম চক্রবর্তী, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের জীবন বদলে দিয়ে এখন শত শত নারীর অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা রানী সরকার। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প স্থানীয় সমাজে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
একসময় সাধারণ গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলালেও স্বাবলম্বী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি নতুন পথের সন্ধান করেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সেলাই ও ব্লক-বাটিকের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তার উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা। নিপুণ হাতে তৈরি পোশাক ও শৈল্পিক নকশার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তার কাজ স্থানীয় বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ঘরে বসে ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। নিজের আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনের পাশাপাশি তিনি এলাকার অসহায় ও পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করেছেন।
নারী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে সরকারিভাবে ‘অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক **জয়িতা পুরস্কার** অর্জন করেন কনিকা রানী সরকার। তার এই অর্জন দুর্গাপুরের নারী সমাজকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ নারীকে সেলাই ও ব্লক-বাটিকের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছেন। তার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারীই এখন নিজস্ব উদ্যোগে আয় করছেন এবং পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখছেন।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে কনিকা রানী সরকার বলেন,
“শুরুতে পথটা অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম—দক্ষতা থাকলে কেউ কাউকে আটকে রাখতে পারে না। আজ যখন দেখি আমার কাছে কাজ শিখে অন্য মেয়েরা আয় করছে এবং নিজেদের পরিবারে অবদান রাখছে, তখন মনে হয় আমার পরিশ্রম সার্থক।”
তার এই সাফল্যে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন নারী সংগঠন সাধুবাদ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কনিকা রানী সরকারের মতো উদ্যোক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে নারী ক্ষমতায়নের বাস্তব উদাহরণ।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কনিকা রানী সরকারের এই অনুপ্রেরণামূলক পথচলা নেত্রকোনার হাজারো নারীর জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

