নেত্রকোনা, প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলায় অস্থায়ী পশুর হাটের ইরাজার ডাক নিয়ে বিএনপির ও জামায়াতের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষে মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় পশুর হাটের উন্মুক্ত ইজারা স্থগিত করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান এর উপস্থিতিতে দুপক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় জামায়াতের কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবী করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা। তবে কোনো মারামারি বা হতাহতের ঘটনা হয়নি বলে অস্বিকার করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু তাহের তালুকদার।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৫৩ টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়ার সময় নির্ধান করা ছিল। কিন্তু ইজারার উন্মুক্ত ডাক শুরুর পূর্বের বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশুর হাটের ডাক স্থগিত করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশুর হাট ডাকে অংশ গ্রহণ করতে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইজারার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ ও সমঝোতা নিয়ে উপস্থিত স্থানীয় জামায়াত এবং বিএনপির দুটি পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে হল রুমের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন উপস্থিত নিবার্হী কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান জানান, সরকারি নিয়ম মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাক আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা যখন ইজারা নিয়ে ডাকের শর্ত সমূহ উন্মুক্ত ভাবে সকলের সামনে পড়ে শুনাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করে দলীয় নেতা-কমীরা চলে আসে ও হট্টোগোল শুরু করে। পরে পরিস্থিতি খারাপ দেখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে হাটের ডাক বন্ধ করে দেই।

