সত্যম চক্রবর্তী দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: এক টুকরো মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার ইচ্ছা—এটাই ছোট্ট শিশু রাবেয়ার স্বপ্ন। কিন্তু চরম অভাবের সংসারে সেই স্বপ্নও যেন বিলাসিতা। যেখানে প্রতিদিন দু’মুঠো ভাত জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে মাংসের স্বাদ তাদের কাছে দূরের স্বপ্ন।
ছয় সন্তানকে নিয়ে একাই জীবনসংগ্রামে লড়ছেন সাজিদা বেগম। দেড় বছর আগে স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে তাদের সংসার। বর্তমানে সোমেশ্বরী নদীর তীরে একটি জরাজীর্ণ কুঁড়ে ঘরে কোনো রকমে টিকে আছে তাদের জীবন।
এক সময় নদীর বালুর ঘাটে কাজ করেই চলত সংসার। কিন্তু সেই ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে আয়-রোজগারের পথও। এখন অন্যের বাসায় কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে দিন। অনেক সময় লবণ-মরিচ দিয়ে ভাত খেয়েই কাটে দিন, আবার কখনো শুধুই পানি খেয়ে থাকতে হয়।
মায়ের কষ্ট লাঘব করতে পরিবারের দুই কিশোর সন্তানও নেমেছে কাজের সন্ধানে। কেউ নদী থেকে বালু টানে, আবার কেউ ফেরি করে বাদাম বিক্রি করে। সামান্য যা আয় হয়, সবই তুলে দেয় মায়ের হাতে।
অভাবের মধ্যেও বড় এক স্বপ্ন ছিল সাজিদা বেগমের। ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন হাফেজ বানানোর আশায়। কিন্তু খাবারের অনিশ্চয়তা ও অর্থাভাবের কারণে সেই স্বপ্নও আজ থমকে গেছে।
তবে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় কিছু সহৃদয় মানুষ। তাদের সহযোগিতায় অন্ধকার ঘরে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। এতে প্রমাণ হয়েছে—মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে কঠিন জীবনেও নতুন আশার আলো জ্বলে উঠতে পারে।

