জাকির আহমদ খান কামালঃ সাংবাদিকতা একটি পবিত্র পেশা—যেখানে সত্য উদঘাটন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। কিন্তু যখন এই পেশার আড়ালে কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য অপপ্রচার চালায়, তখন তা শুধু সাংবাদিকতার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং সমাজে একটি গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, কিছু তথাকথিত অনলাইন সাংবাদিক সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত তথ্য সংগ্রহ করে তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং পরবর্তীতে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সেই অপপ্রচার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই সাংবাদিকতা বলা যায় না, এটি সরাসরি চাঁদাবাজি এবং নৈতিক সন্ত্রাস।
প্রকৃত সাংবাদিকতা নিরপেক্ষতা, সত্যনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের উপর প্রতিষ্ঠিত। একজন সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য যাচাই-বাছাই করে জনগণের সামনে তুলে ধরা, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা নয়। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পেশার নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ভয় দেখায় এবং সেই ভয়কে পুঁজি করে অর্থ আদায় করে। এটি কেবল আইনত অপরাধ নয়, নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ও বটে।
এ ধরনের অপসাংবাদিকতার কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। জনগণের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। গণমাধ্যম যদি বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, তবে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং দুর্নীতিবাজরা আরও বেশি সুযোগ পায় নিজেদের আড়াল করার।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমত প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ। যারা সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজেদের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে, যাতে কোনো অসাধু ব্যক্তি এই পেশার সুনাম নষ্ট করতে না পারে। প্রেস কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, সাংবাদিকতা কোনো ব্যবসা বা ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল সামাজিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হয়ে যারা অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নেয়, তারা শুধু নিজেদের নয়, পুরো পেশাকেই কলঙ্কিত করে। তাই এখনই সময়—সাংবাদিকতার নামের আড়ালে চলা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার।
জাকির আহমদ খান কামাল, কলামিস্ট।

