পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলায় তেলের পাম্পে জ্বালানি নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আতকা পড়া মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশন-এ এই ঘটনা ঘটে। হামলার পর সংসদ সদস্যকে পাম্পের নামাজ ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পরবর্তীতে প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার পান। এই ঘটনায় বিশকাকুনি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি বাবলু মিয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় সংসদ সদস্য মোস্তফা মাসুম নিজের গাড়ির জন্য তেল নিতে পাম্পে উপস্থিত হন। সেখানে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষমাণ বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয় জনতার ভিড় দেখে সংসদ সদস্য উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উপস্থিত সবার মাঝে তেল সরবরাহ শুরু হয়। তেল দেওয়ার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য পাম্প সংলগ্ন নামাজ ঘরে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় একদল লোক অতর্কিতভাবে তার গাড়িতে হামলা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি নামাজ ঘরের ভেতরেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এসময় হামলাকারীদের আঘাতে বিশকাকুনি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি বাবলু মিয়া আহত হন।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন জানান, এই অপ্রীতিকর ঘটনার একটি পূর্বসূত্র রয়েছে। গতকাল জামায়াত কর্মীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পূর্বধলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ ধরেই আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হামলার বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা কালবেলা কে বলেন, বিএনপির কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা দলীয়ভাবে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব। তবে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করা হবে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার বলেন, পাম্পের এই ঘটনার পর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন সাহেব আমাকে ফোন করেন। খবর পাওয়া মাত্রই আমি লোকজন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমার গাড়ির পাহারায় তাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জাহান বলেন, ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে করে এমপি সাহেবকে নিরাপদভাবে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার। তবে এ বিষয়ে তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

