পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুরের চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতার হাতে আটক এক কর্মীকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে মুক্ত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।
গত ২১ আগস্ট সকালে উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উঠছে নানামুখী প্রশ্ন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে নারান্দিয়া ইউনিয়নের হিরণপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা নেত্রকোনা-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী ‘রফ রফ’ পরিবহনের একটি বাসে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ধাওয়ার মুখে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে জনতা, যার মধ্যে একজন কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আটকে রাখা ছাত্রলীগ কর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর তাকে এমপির গাড়িতে তুলে নেওয়া হলেও পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে অন্যত্র নিয়ে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার জানান, “নারান্দিয়া বাজার এলাকায় স্থানীয় জামায়াতের এমপির সহযোগিতায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ প্রায়ই এই ধরনের মিছিল বের করে আসছে। মিছিলে ঝামেলার পর জনতার হাতে আটক ছাত্রলীগ কর্মীকে কিসের ভিত্তিতে এমপির গাড়িতে তুলে নিয়ে মুক্ত করা হলো? আমরা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে আছেন পরবর্তীতে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েলকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

