পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২৩ বছর প্রতিক্ষার পর নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় কমিটি বিলুপ্ত করে ১০৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিযয়েছে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগ।
তবে কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই তা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে শুরু হযয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া, আলোচনা ও সমালোচনা। রাজপথের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও দূ’ দিনে পাশে থাকা নেতাদের যোগ্য মূল্যায়ন না করার অভিযোগে ক্ষোভ জানাচ্ছেন দলের অনেক সাধারণ কর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আমীরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান লিটন স্বাক্ষরিত ৩১ জুলাই রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি সামনে আসে।
ঘোষিত কমিটিতে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য জাকিয়া পারভীন খানম মনি-কে আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হযয়েছে। তারা হলেন, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদুল আলম টিপু, আবুল কালাম আজাদ, আমেরিকা প্রবাসী আমানুর রশিদ জুযয়েল, সুকান্ত চন্দ্র সরকার রঞ্জন, আনিসুর রহমান শিশির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন, মজিবুর রহমান এবং ব্যারিস্টার মাহজেরিন মোশাররফ মৌ। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ড. নাদিয়া বিনতে আমিন, কৃষিবিদ মিছবাহুজ্জামান চন্দন,একাধিক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, হাফ তজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, আমেরিকা প্রবাসী,শিক্ষক, আইনজীবী, বয়সে তরুণসহ ৯৪ জনকে সম্মানিত সদস্য করা হয়েছে।
কমিটির তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আইডি এবং গ্রুপগুলোতে পক্ষে- বিপক্ষে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
নেটিজেন ও তৃণমূল কর্মীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন, বহু বছর ধরে দলের কঠিন সমযয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হযয়েছে।
অনেকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যে, লবিং-তদবির এবং ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এই ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হযয়েছে, যেখানে দলের মূল প্রাণ তৃৃণমূল কর্মীদের মতামত ও ত্যাগের কোনো প্রতিফলন নেই।
অনেকে এ কমিটিকে সময়োপযোগি ও সাহসী পদক্ষেপ বলে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

