এ বিষয়ে সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিদপ্তর থেকে গতকাল রোববার একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বিতরণের জন্য অন্তত ৯ জন ডিলার থাকতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সার চাহিদা ও কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করে প্রয়োজনে ডিলারের সংখ্যা বাড়ানো যাবে।
সংশোধিত নীতিমালায় সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও জেলা ডিলার সমবায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা কমিটি ডিলার নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপ নিতে পারবেন না।
আবেদন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ডিলারদের জন্য নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির উপযোগী সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যমান ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার সার চাহিদা, জেলাভিত্তিক ডিলার কোটা এবং নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
অফিস আদেশে সার উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি ডিলার অথবা উপজেলা পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় জেলা কমিটিকে ডিলারদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার বাস্তবায়ন ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিলার নীতিমালা ভঙ্গ করলে বা নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের কাছে প্রয়োজনের সময় সঠিকভাবে সার পৌঁছে দেওয়াই সংশোধিত নীতিমালা কার্যকরের মূল লক্ষ্য।