এইচ রহমান ঃ আকাশে তখন বিকেলের মলিন আলো সেহলা মাদরাসার বিশাল মাঠ প্রাঙ্গণে তিল ধারণের জায়গা নেই। কারো হাতে তসবিহ, কারো চোখে জল—সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল সামনের সেই খাটিয়ার দিকে, যেখানে নিথর হয়ে শুয়ে আছেন পূর্বধলার আধ্যাত্মিক জগতের অভিভাবক শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ হোসাইন।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় হাজার হাজার মানুষের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে জানাজা শেষে এই প্রবীণ আলেমে দ্বীনকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে একই দিন সকাল পৌনে ৭টায় উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৬ বছর বয়সী এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।
গত কয়েক দিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার সঙ্গে লড়ে আসছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীকালে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেখানেই সমাপ্তি ঘটে এক বর্ণাঢ্য জীবনের।
মাওলানা আহমদ হোসাইন কেবল একজন আলেম ছিলেন না, তিনি ছিলেন চলন্ত একটি ইতিহাস। ১৯৩৩ সালে দামপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই ক্ষণজন্মা পুরুষ প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা মাদরাসাকে আগলে রেখেছিলেন। সাধারণ শিক্ষক থেকে শুরু করে শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল হিসেবে তার দীর্ঘ সফর ছিল হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের অনুপ্রেরণা।
সাত ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যাওয়া এই মহিরুহের বিদায়ে পুরো উপজেলায় এখন শোকের ছায়া।
জানাজায় স্থানীয় আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে সর্বমহলে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা গভীর ছিল।
মাদরাসার যে প্রাঙ্গণে তিনি বছরের পর বছর বুখারি শরিফের দরস দিয়েছেন, সেই চত্বরই আজ তার বিদায়ের সাক্ষী হয়ে থাকল।
পূর্বধলার আকাশ থেকে একটি প্রদীপ্ত নক্ষত্র ঝরে গেলেও তার রেখে যাওয়া আদর্শ আর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উত্তরসূরি হিসেবে তার নামকে উজ্জ্বল করে রাখবে অনন্তকাল।