পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন।
৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তার জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা। এই তালিকায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রাবেয়া খাতুন (রাবেয়া আলী) ।
আসন্ন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পূর্বধলার কৃতী শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক রাবেয়া আলী। তাঁর পিতা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৪৮-১৯৫২)। স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলী নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর পারিবারিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
শিক্ষাজীবনে তিনি আনন্দমোহন কলেজ ও মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজসহ স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতায় যুক্ত হয়ে পূর্বধলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ইতিপূর্বে তিনি তেজগাঁও থানা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং মহিলা দলের তেজগাঁও শাখার সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। তবে এ বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী বলেন, “দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেয়, তাহলে দলের আদর্শ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”