পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাবা-মা ও ভাইদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বৃদ্ধ আব্দুর রহমানের পরিবার। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ছয় সন্তানের জনক আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। নিরাপদ বসতভিটার আশায় জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের ১২ শতক জমির ওপর বসতভিটা থাকলেও একটু সচ্ছলতার আশায় শেষ বয়সে গরু বিক্রি ও জমি বন্ধক রেখে প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিনের কাছ থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ১০ শতাংশ জমি কেনেন।
পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য হিসেবে জমি ক্রয় ও রেজিস্ট্রেশনের সব দায়িত্ব মেজো ছেলে বাচ্চু মিয়ার ওপর ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বাচ্চু মিয়া কৌশলে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাবা-মা জমির কাগজপত্র দেখতে চাইলে বাচ্চু মিয়া তাঁদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরুপায় হয়ে বাচ্চু মিয়ার মা বাদী হয়ে জমি উদ্ধার ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর বাচ্চু মিয়া কিছুদিন জেল খাটলেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে সেই বিতর্কিত জমিতেই ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন।
টাকা লেনদেনের সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী মামুন, তারা মিয়া, ফাতেমা ও খোদেজা খাতুন জানান, জমি ক্রয়ের সময় পরিবারের পক্ষ থেকেই বাচ্চু মিয়ার হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মিয়া দাবি করেন, তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়েই জমিটি ক্রয় করেছেন।
এদিকে প্রতারণার শিকার পরিবারটি জমি উদ্ধার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। স্থানীয়দের মতে, রক্তের সম্পর্ককে পুঁজি করে এমন বিশ্বাসঘাতকতা শুধু একটি পরিবারের সর্বনাশ নয়, বরং গোটা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি উদ্বেগের চিত্র।