পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিভেদ এখন চরমে। বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদারের নাম সামনে আসার পর থেকেই একদিকে যেমন এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র প্রচারযুদ্ধ, পাল্টা অভিযোগ ও কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রমণ।
দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো চার ভাগে বিভক্ত থাকলেও মনোনয়নপ্রক্রিয়ার প্রভাবে সেই বিভাজন এখন স্পষ্টতই দুই শিবিরে সীমাবদ্ধ। মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর সমর্থক এবং মনোনয়নবঞ্চিতদের সমর্থকরা ফেসবুকে এমনভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে, যেন এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় বরং এক অনিয়ন্ত্রিত সাইবার গৃহযুদ্ধ।
দলীয় বিরোধের এই চিত্র সবচেয়ে প্রকট ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
বেনামি ও ফেক আইডি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়ানো, বিকৃত ছবি-ভিডিও প্রকাশ এবং মনগড়া তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ানো এসব কর্মকাণ্ডে অনলাইন পরিসর কার্যত দলীয় সংঘাতের অঘোষিত রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। তাঁদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লাগামহীন এই অপপ্রচার দলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিচ্ছে এবং জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন অস্থিরতা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিকে দুর্বল করবে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নেতিবাচক ছায়া ফেলবে। তাঁদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে এমন অস্থিরতা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে দুর্বল ও অনিশ্চিত করে তুলছে। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরিভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।