এইচ. রহমান: আকাশ যার ঠিকানা, সেই বিশাল ডানার বাজপাখি ঈগল যখন রাজপথে বিদ্যুতের শকে লুটিয়ে পড়ে, তখন তা কেবল একটি প্রাণীর পতন নয়—যেন প্রকৃতির এক নীরব আর্তনাদ। কিন্তু নেত্রকোণা সরকারি মহিলা কলেজের সামনে সেই নীরব আর্তনাদ শুনলেন এক নেতা—তিনি নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো. আনোয়ারুল হক।
রাজনীতি আর পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে, নিজের পরিচয় ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন এক ত্রাতা।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে ডা: মো. আনোয়ারুল হক এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা: লুৎফা হক যখন কলেজ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ তাঁদের চোখে পড়ল মর্মান্তিক দৃশ্যটি: বিশাল ডানার শিকারি পাখিটি বিদ্যুতের আঘাতে নিস্তেজ, মাটির ওপর পড়ে আছে। এক মুহূর্তের জন্যও কালক্ষেপণ করলেন না ডা. আনোয়ারুল। তিনি দ্রুত গাড়ি থামিয়ে নেমে এলেন, নিস্তেজ পাখিটিকে পরম যত্নে হাতে তুলে নিলেন। হাতের স্পর্শে ক্ষতস্থান অনুভব করে তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিলেন।
তাঁর নির্দেশনা অনুসারে ছাত্রদল নেতা মো. জুবায়ের হোসেন জিসান দ্রুত আহত পাখিটিকে নিয়ে সদর উপজেলার পশু হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে কর্তব্যরত ভেটেরিনারি সার্জন ডা: সাদ আল সাদিক জরুরি ভিত্তিতে পাখিটির প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং তাকে ১৫ দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেন।
কেন এই দ্রুত উদ্যোগ, কেন এই গভীর সংবেদনশীলতা? পাখিটিকে বন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়ার সময় অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হকের মন্তব্যেই তা স্পষ্ট।
অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হক জোরালো কণ্ঠে বলেন, "মানুষের চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি পশুপাখিদেরও সেই অধিকার রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা পাখিটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "প্রাথমিক চিকিৎসার পর এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বিবেচনা করেই পাখিটিকে সরকারি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই বিপন্ন শিকারি পাখিটির খোঁজখবর রাখবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।"
আজ যখন দেশের রাজনীতিতে সংঘাতের রেশ, তখন একজন নেতার এমন মানবিক পদক্ষেপ নেত্রকোণাবাসীর হৃদয়ে এক শীতল সমবেদনার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি প্রাণীর জীবন রক্ষা নয় বরং এই বার্তা দেয় যে, মানুষের মানবিকতার ডানা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রসারিত হতে পারে।