জনভোগান্তির শেষ কোথায় দীর্ঘ দুই দশকেও কোনো প্রকার সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন কবে হবে সংস্কার? নেত্রকোনার পূর্বধলায় রেল লাইনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাত্র ৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। পূর্বধলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে উত্তর দিকে উপজেলার জারিয়া ইউপির বাড়হা পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দীর্ঘ দুই দশকেও কোনো সংস্কার নেই। উপজেলা সদর, বুধি, বারধার, জুগলী, ভিতরগাঁও, মৌদাম, কান্দা, বাড়হা গ্রামের মানুষের আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি।
সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করা অনেক মুশকিল। সড়ক সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এ সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিতে খানা-খন্দে পানি ভরে সড়কটিতে দুর্ভোগের শেষ নেই। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। জরুরিভিত্তিতে সড়ক সংস্কার করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
জানা যায়, ২০০৫ সালে সাবেক সংসদ-সদস্য মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলী জনগুরুত্ব বিবেচনা করে রেল লাইনের পাশ দিয়ে রাস্তাটি পাকা করে দেন। সেই থেকে এ রাস্তাটির দিকে আর কেউ তাকাননি। বর্তমানে এ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা গেছে, রাস্তাটি রেল লাইনের পাশ দিয়ে নির্মাণ করায় ওই রাস্তা নিয়ে রেলওয়ের অনুমতি না দেওয়ায় জনদুর্ভোগ থাকাসত্ত্বেও সড়ক মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় পথচারী আব্দুল হামিদ মোড়ল বলেন, "প্রতিদিন কাজের জন্য এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করি। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটা কাদায় ভরে যায়, পা ফেলার জায়গা থাকে না। ছোট ছোট গর্তে পানি জমে থাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। স্কুলে যাওয়া শিশু, অফিসগামী মানুষ, রোগী বহনকারী রিকশা—সবারই ভোগান্তি চরমে।"
অটোরিকশা চালক উজ্জ্বল মিয়া জানান, "বছরের পর বছর ধরে এমন দুর্ভোগে আছি, কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি আসে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমরা কি নাগরিক হিসেবে একটু ভালো রাস্তা পাওয়ার অধিকারও রাখি না?প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন এই রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার করা হোক।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, "রাস্তাটি রেল লাইনের পাশে হওয়ায় রেলওয়ের অনুমতি না দেওয়ার কারণে সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি মেরামত করা হবে।"